একটি হৃদয়স্পর্শী গল্প A P J Abdul Kalam Story

0
188

Dr.Apj আব্দুল কালাম এমন একজন মানুষ যিনি সকলের মন জয় করেছেন তার গুনের মাধ্যমে তার আদর্শে অনুপ্রানিত হয় আমরা সকলে।সাবেক রাষ্ট্রপতি ও পরমাণু বিজ্ঞানীর  জীবন খুব সুখের ছিল না।তিনি বলেছিলেন দারিদ্রতা ছিল কিন্তু সেই দারিদ্র্যতা মনকে স্পর্শ করেনি।

The President, Dr. A.P.J. Abdul Kalam presenting the Sangeet Natak Academy Awards – 2005 to Shri Subbu Arumugam of Tamil Nadu for outstanding performance in the field of performing Arts , in New Delhi on March 20,2006. ছবির  সৌজন্যে Google

তার পিতা ছিলেন একজন মাঝি মা আসিয়াম্মা ছিলেন গৃহবধু।দাদা- ভাই থাকায় দারিদ্রতা প্রতিনিয়ত পড়াশুনায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল আর এই কারনেই একটু বড়ো হতেই তিনি বুঝেছিলেন কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা আর এই কারনে স্কুল ছুটির পর সংবাদপত্র বিক্রি করতেন।তার মনের মধ্যে ছিল অদম্য ইচ্ছা শক্তি তিনি স্বপ্ন দেখতে ভালবাসতেন আর এই কারনেই স্বপ্নের তাড়নায় তিনি তার স্বপ্নের জগতে পৌঁছতে চাইতেন।তিনি কেবল একা স্বপ্ন দেখেননি নিজের স্বপ্ন পূরনের পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মকে শেখাতেন স্বপ্ন কী এমনকী মৃত্যুর কোলে ধলে পরার পূর্ব মুহুর্ত অবধি তিনি একজন ছাত্র-র সঙ্গে স্বপ্ন দেখার কথা বারংবার বলেছেন।

ছবি সৌজন্য Google

জীবনের পথে অনেক চড়াই উতরাই পেরোতে হয়েছিল আর সেখান থেকে অর্জন করেছিলেন অনেক শিক্ষা যা পুঁথিগত নয় এ শিক্ষা মনুষ্যত্বের শিক্ষা ।আর প্রতিটি শিক্ষার্থীর মধ্যে জ্ঞানের আলো পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন তিনি,তাদের সঙ্গে সময় কাটানো ছিল তার প্রিয় কাজ। তাদের মনকে জাগ্রত করতে চেয়েছেন তিনি।

তার জীবনের অনেক কাহিনী সকলের সঙ্গে ভাগ করেছিলেন তিনি যা আমাদের  অনুপ্রানিত করে এমনই আব্দুল কালামের একটি গল্প যা আমদের মনকে চিন্তন চেতনকে জাগ্রত করে তুলবে।গল্পটি হল-তিনি রামেশ্বরম থাকতেন।বাস্তবের কঠিন মুহুর্তের মধ্যেও সকল পরিস্থিতির সঙ্গে সকলে মানিয়ে নিয়ে চলতেন।তখন তার বয়স তখন দশ বছর,পাঁচ বোন পাঁচ ভাই তাদের আবার নিজস্ব সংসার আছে।সব মিলিয়ে এক এলাহী কান্ড ।তার দাদী আর মা মিলে সকলকে একসূত্রে গেথে রেখেছিলেন।

ছবির সৌজন্যে Google

তিনি ভোর চারটেই উঠে শিক্ষকের কাছে পড়তে যেতেন।বছরে মাত্র পাঁচ জন ছাত্রকে বিনা পারিশ্রমিকে পড়াতেন।তার মা আসিয়াম্মা তারও আগে উঠে তাকে গোসল করে তৈরী করিয়ে পড়তে পাঠাতেন ।পড়া শেষ হতে হতে সাড়ে পাঁচটা।এখানে শেষ নয় এর পর তিন কিলোমিটার হেঁটে রেলস্টেশনে যেতেন খবরের কাগজ সংগ্রহ করতে।কাগজ বিক্রির শেষে আটটাই বাড়ি ফিরলে মা খেতে দিতেন।সন্ধ্যা বেলা আবার স্কুল শেষ করে যেতেন লোকজনের কাছে বকেয়া আদায় করতে।সেসময় তার জীবন কাটত শহরময় হেটে হেটে যেখানে সেই বয়সী ছেলেরা খেলতে যেত বিকেল হলে।

শুধু তিনি নন তার মাও ভীষন পরিশ্রম করতেন।সারাদিন পরিশ্রমের পর রাতের রান্না তৈরী করতেন।একদিন আব্দুল কালামের বাবাকে তার মা  সবজি আর পুড়ে যাওয়া রুটি খেতে দিলেন।কালাম স্যার অপেক্ষা করছিলেন তার বাবার প্রতিক্রিয়া দেখবার জন্য ।কিন্তু তার পিতা কোনো উচ্চ বাক্য করলেন না বরং তৃপ্তি সহযোগে সেটি গ্রহন করলেন।এবং আহার শেষে পিতা তাকে জিজ্ঞেস করলেন স্কুলের দিনটি কেমন কেটেছে ।

ছবি সৌজন্য Google

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তার মনে ছিল না কি উত্তর তিনি দিয়েছিলেন তবে তিনি বলেছিলেন তার এটা মনে আছে পরে পোড়া রুটি খেতে দেওয়ার জন্য মা বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন।এর উত্তরে তার বাবা যা বলেছিলেন তা কখনোই ভুলবার নয়।তিনি বলেছিলেন-

প্রিয়তমা পোড়া রুটি আমার পছন্দ ।

পরবর্তী রাতে কালাম যখন তার পিতাকে প্রশ্ন করেন তিনি আসলে পোড়া রুটি পছন্দ করেন কীনা তখন তার বাবা সস্নেহে তাকে জড়িয়ে ধরে বলেন -“তোমার মা সেদিন সারাদিন অনেক পরিশ্রম করেছিলেন ক্লান্ত ছিলেন ,একটা পোড়া রুটি খেলে মানুষ কষ্ট পায়না বরং মানুষ কষ্ট পায় কর্কশ ও নিষ্ঠুর কথায় ।জেনে রেখ জীবন হচ্ছে ত্রুটিপূর্ন জিনিস এবং মানুষেরও ত্রুটি ঘটে আমি কোনো ক্ষেত্রে সেরা নয় বরং কমক্ষেত্রেই ভালো বলা যায় আর সবার মতোই আমিও জন্মদিন বিবাহবার্ষিকীর তারিখ ভুলে যায়।তবে এ জীবনে যা শিখেছি আমাদের একে অপরের ভুলগুলোকে মেনে নিতে হবে এবং সম্পর্কগুলোকে উপভোগ করতে হবে।জীবন খুব ছোট প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে অনুতাপ করার কোনো মানেই হয়না।যে মানুষ গুলো তোমার জীবনের যথার্থ মূল্যায়ন করে তাদের ভালোবাসো আর যারা তোমাকে মূল্যায়ন করেনা তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হও।”

ছবির সৌজন্যে Google

তার পিতার আদর্শেই তিনি আদর্শবাদী হয়েছিলেন ,কথার মাধ্যমে শিক্ষা, মনুষ্যত্বের বোধে উদ্বুদ্ধ হওয়া,আচরন সকল শিক্ষায় আব্দুল কালামের গ্রন্থে পাওয়া যায়।

 

দেখুন ভিডিও