আপনি কি কথায় কথায় খিস্তি দেন? খিস্তি দেওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী, ঘোষণা গবেষকের।পড়ুন বিস্তারিত

0
86
Image Source : Google

আমাদের রোজকার দৈনন্দিন জীবনে এমন অনেক মানুষের সাথেই আলাপ হয়, যাদের মুখের ভাষা অত্যন্ত খারাপ, এবং অরুচিশীল, যারা কথায় কথায় এর বাচ্চা, তার বাচ্চা থেকে শুরু করে আরও নানা ধরনের গালিগালাজ দিয়ে থাকে! বন্ধুদের সামনে তো ঠিকই আছে, তবে কথা বলতে বলতে যদি এই সব ‘মধুর বচন’ কখনও পরিবারের গুরুজন বা শিশুদের সামনে মুখ ফসকে বেরিয়ে যায় অথবা পাড়া-প্রতিবেশীদের সামনে যদি কখনও বেইজ্জতি হতে হয় এই মুখ খারাপের জন্য? তা হলেই তো রীতিমত কেলেঙ্কারি! তবে যে যাই বলুক না কেন, বর্তমানে মনোবিজ্ঞানী এবং গবেষকেরা কিন্তু মানুষের এই ‘কু-কথা’ বলার অভ্যাসকেই জীবনে সুস্থ থাকার সহজ উপায় হিসেবেই ব্যাখ্যা করছেন। তারা এটাও জানিয়েছেন যে, মানসিক চাপ, মাত্রাতিরিক্ত উত্তেজনা এবং অবসাদ কমানোর জন্য এই “গালিগালাজ” একটা খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে, এবং এটা গবেষকদের শুধুই মুখের কথা নয়, একাধিক মার্কিন গবেষণায় এর প্রমাণ ও পাওয়া গেছে, এবং এই ধারণার সঙ্গেই ব্রিটিশ গবেষক এবং মনোবিজ্ঞানীরাও একমত হয়েছেন।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক ও ফলিত ভাষাতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক, “ডঃ কিরিকুস অ্যান্টনি” জানিয়েছেন যে, এই “গালিগালাজ” হল আমাদের মন থেকে রাগ, ক্ষোভ বের করে দিয়ে মানসিক চাপ কাটানোর একটি সহজ উপায়। তাঁর মতে, যে সব মানুষ উত্তেজিত হলেও গালিগালাজ দিতে পারেন না বা দেন না, তাঁদের মধ্যে মানসিক অবসাদ, উচ্চ রক্তচাপ-সহ নানা রকম স্নায়বিক সমস্যা বেশি দেখা যায়। শুধু তাই নয়, কখনও কখনও আবার এই সব ব্যক্তিদের মধ্যে দ্বৈত ব্যক্তিত্বের (split personality) সমস্যাও কিন্তু দেখা দিতে পারে। সুতরাং, যারা অতি সহজেই রেগে গেলে গালাগাল দিয়ে ফেলেন, তাঁরা নিজের জীবনে অনেকটাই বেশি সুস্থ থাকেন। তাই মার্কিন গবেষক এবং মনোবিজ্ঞানীদের মত অনুযায়ী, মাত্রাতিরিক্ত মানসিক চাপ, অবসাদ, ক্ষোভ কাটানোর জন্য প্রয়োজন পড়লে একান্তে গালিগালাজ দেওয়া খুব ভাল একটা অপশন। তবে হ্যাঁ, তাই বলে সব জায়গায় নয়, গালিগালাজ করার ক্ষেত্রে, স্থান-কাল-পাত্র বিষয়ে জ্ঞান থাকাটা অত্যন্ত জরুরি! না হলেই কিন্তু বিপদ।