ব্রেক আপের পর এক্স কে ব্লক করে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই?

0
43

যতই সম্পর্ক শেষ করে দাও না কেন, সোশ্যাল ফেসবুক, ইনস্টাগ্র্যামের গোলকধাঁধাঁ থেকে কিছুতেই ঝেড়ে ফেলা যাচ্ছে না তাকে। তুমি প্রাণপণে চেষ্টা করেও শেষমেশ নিজেকে না আটকাতে পেরে তার প্রোফাইলটি খুলে টুক করে দেখে ফেলছ এক্স-এর হাল-হদিশ। কিন্তু কী করবে তুমি? ব্রেক আপের পর যদি বারবার দেখতে ইচ্ছে করে সে কী করছে না করছে? ব্লক করবে, নাকি…

কাটাকুটি হয়ে গিয়েছে বেশ কিছুদিন আগেই। বেশ ঝগড়াঝাঁটি, রাগারাগির পরেই এতদিনকার সম্পর্কটি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন দু’জনে। কয়েকদিন আগেকার গদগদ প্রেম, পি ডি এ, রোম্যান্টিসিজ়ম এখন অতীত। তার বদলে দেখা হলেই কেবল না চেনার ভান করে মুখ ঘুরিয়ে চলে যাওয়া… আর মনে-মনে দীর্ঘশ্বাস ফেলা! স্মৃতি এখন ঝাপসা হওয়াই ভাল, এটা তো তুমিও মেনে নেবে নিশ্চয়ই। কিন্তু তাই বলে সোশ্যাল মিডিয়া নামক জিনিসটিকে তো আর ভুলে যাওয়া যায় না! আর সেখানেই দিব্য জ্বলজ্বল করছেন তোমার এক্স। যতই সম্পর্ক শেষ করে দাও না কেন, যতই খিস্তিটিস্তি দিয়ে দিয়ে ব্রেক আপ হোক না কেন, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের গোলকধাঁধাঁ থেকে কিছুতেই ঝেড়ে ফেলা যাচ্ছে না তাকে। ফলে কাজের ফাঁকে-ফাঁকে হাত পড়েই যাচ্ছে সার্চ অপশনে তার নামে। আর তুমিও প্রাণপণে চেষ্টা করেও শেষমেশ নিজেকে না আটকাতে পেরে তার প্রোফাইলটি খুলে টুক করে দেখে ফেলছ এক্স-এর হাল-হদিশ। কিন্তু কী করবে তুমি? ব্রেক আপের পর যদি বারবার ফিরে যেতে ইচ্ছে করে এক্স-এর প্রোফাইলে? যদি ক্ষণে-ক্ষণেই দেখতে ইচ্ছে করে, সে কী করছে না করছে? ব্লক করবে, নাকি… ashoknagarcanvas খুঁজতে চেষ্টা করল তারই সমাধান।

 

এক্সকে নিয়ে অবসেশন?

সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, ব্রেক আপের পরেও প্রায় ৬০%-ই কিন্তু তাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল থেকে এক্সকে ব্লক করে না। বরং ‘বন্ধু’ই রেখে দেয় বা ফলোও করে যায়। মানছি, এ আকর্ষণ কাটানো বেশ চাপের। ব্রেক আপের পরেও তো জানতে ইচ্ছেই করে এক্স-এর হালচাল, তার ছবি বা কোথায় কার সঙ্গে যাচ্ছে, কে তার ছবির তলায় কমেন্ট করল বা কে কী রিঅ্যাকশন দিল, এগুলো জানার জন্য মন ছোঁকছোঁক করেই। তারপর যদি দেখো যে, ব্রেক আপের পরেও তোমার এক্স দিব্যি মজায় আছে আর তুমিই একা তার দুঃখে বোকার মতো হা-হুতাশ করে মরছ, তা হলে রাগ হওয়া স্বাভাবিক। তাই তোমার যদি মনেই হয় যে এক্স-এর সারাদিনের কাজকম্মটি না দেখে থাকতেই পারছ না এবং ক্রমাগত সেটা দেখাতেই অবসেসড হয়ে পড়ছ, তা হলে কিন্তু সাবধান। এরকম হলে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে এক্সকে টাটা বলাই বাঞ্ছনীয়।

 

মেমরি ব্লক!

ব্রেক আপের পর সবচেয়ে মারাত্মক ক্ষতিকর যেটা হতে পারে, সেটা হল স্মৃতি। একসঙ্গে কোথায় গিয়েছিলে, কী-কী করেছিল, কীভাবে প্ল্যান বানাতে দু’জনে একসঙ্গে বা একে অপরকে কীভাবে সারপ্রাইজ় দিতে, এসব জিনিসপত্তর তখন মাথায় আসবেই। আর এইসব মনে পড়া মানেই কিন্তু আরও বেশি করে মন খারাপ হওয়া। জানি, ভুলতে বললেই সবসময় পুরনো কথা বা স্মৃতি ঝেঁটিয়ে বিদেয় করে দেওয়া যায় না, কিন্তু ফেসবুকের চক্করে যদি ব্যাপারগুলো আরও বেশি করে মনের মধ্যে গেঁড়ে বসে? ঘন-ঘন মন খারাপ হয় বা মাঝে-মাঝেই কান্না পেয়ে যায়? এসব বিপজ্জনক জিনিস থেকে কিন্তু পরে নানা সমস্যা হতে পারে। তাই যখন মনে হবে কিছুতেই পারছ না, তখন ব্লক করে দেওয়াই ভাল।

 

এক্স-এর ‘ব্যথা’!

তুমি মন খারাপ নিয়ে বসেই আছ, এদিকে দেখলে তোমার এক্স দিব্যি নতুন কারও সঙ্গে ঘুরছে, তার সঙ্গে সেলফি দিচ্ছে, এরকম হলে কিন্তু মুশকিল। মন খারাপ বাড়তে থাকলে বিপদ। এমনকী এই মন খারাপ কিন্তু তোমার সারাদিনের রুটিনে ও কাজেও হ্যাম্পার করতে পারে। আর যতই খারাপ লাগা থাকুক, যতই তিক্ততা থাকুক, আফটার অল সে তো তোমার এক্সই। ফলে হালকা একটা ‘ব্যথা’ থেকেই যায়। তাই এক্সকে অন্যের সঙ্গে কোনও সম্পর্কে দেখা বেশ চাপেরই হতে পারে। তবে যে যাই বলুক, প্রাক্তনকে স্টক করার আকর্ষণ কিন্তু অমোঘ। তাই নিজে যদি শান্তিতে থাকতে চাও, তা হলে এক্সকে পত্রপাঠ ব্লক করে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

 

ভেবেই করো

তবে হ্যাঁ, সব প্রেম যেমন এক ধাঁচে চলে না, সব ব্রেক আপও যে এক ধাঁচে হয় না, সেটা নিশ্চয়ই মানো। অনেকে ব্রেক আপের পরেও দিব্যি বন্ধু থেকে যেতে পারে, নিশ্চিন্তে আড্ডা মারতে ও ঘুরতেও পারে। এমনকী সব কথা শেয়ার করতেও তাদের কোনও সমস্যাই হয় না। দেখা গেল তোমার এক্সও তোমার খুব ভাল বন্ধুই, জাস্ট কোনও একটা কারণে তার সঙ্গে তোমার সম্পর্কটা টিকল না। এসব ক্ষেত্রে ব্রেক আপের জন্য তো আর বন্ধুত্ব নষ্ট করা যায় না, কিংবা তাকে সব কিছু থেকে ব্লকও করে দেওয়া যায় না। তাই সেক্ষেত্রে আলাদা কেস হতেই পারে। তবে এক্কেবারে ব্লক করে দেওয়া কিন্তু মোটেই সহজ কোনও ব্যাপার নয়। তাই যা করবে, সেটা কিন্তু ভাল করে ভেবে-চিন্তেই করবে।